মৃতের নিশ্বাস
এই স্বর্গীয় পরিবেশে পা রেখেছে চারজনের একটি ছোট দল। তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি নেই, আছে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা।
হেলমুট সাইমন ও এরিকা সাইমন: এই জার্মান দম্পতি পাহাড়ে ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন। হেলমুট তার দামী ক্যামেরা দিয়ে বারবার বরফে ঢাকা শৃঙ্গগুলোর ছবি তুলছেন। এরিকা লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির এই বিশালতার কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে করছেন, কিন্তু মনে তার অপার আনন্দ।
কুর্ট ফ্রিটজ: স্থানীয় পাহাড়ি গাইড। চওড়া কাঁধ, মুখে রোদে পোড়া তামাটে রঙ। তিনি এই বরফের রাজ্যের নাড়ি নক্ষত্র চেনেন। হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে তিনি পুরনো দিনের পাহাড়ি বীরদের গল্প শোনাচ্ছেন, আর বাকিরা মুগ্ধ হয়ে শুনছে।
রেনার হেন: পেশায় ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট। দলের সবচেয়ে হাসিখুশি মানুষ। ল্যাবরেটরির চার দেয়াল আর মৃতদেহের গন্ধ থেকে দূরে এসে তিনি আজ যেন মুক্তি পেয়েছেন। বরফের ওপর স্লেজ গাড়ির মতো পিছলে যাওয়ার ছেলেমানুষি করে সবাইকে হাসাচ্ছেন।
তারা গান গাইছিলেন, একে অপরের দিকে বরফের দলা ছুঁড়ে মারছিলেন। কুর্ট ফ্রিটজ হেসে বললেন, "আজকের দিনটা একদম নিখুঁত। পাহাড় আজ আমাদের ওপর সদয়।"
কিন্তু দুপুরের পর থেকেই প্রকৃতি যেন তার রূপ বদলাতে শুরু করল। নীল আকাশটা হঠাৎ করেই ছাইরঙা মেঘে ঢেকে গেল। রোদ উধাও, চেনা পথটাও কেন জানি অচেনা মনে হতে লাগল। বাতাসটা আর সতেজ নয়, কেমন একটা শোঁ শোঁ শব্দ করে বইতে শুরু করল, যেন কেউ আড়ালে বসে সতর্ক করছে। কুর্ট ফ্রিটজের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। তিনি তার কম্পাসটা বারবার দেখছেন। "অদ্ভুত! কম্পাসটা ঠিকমতো কাজ করছে না। দিক ভুল দেখাচ্ছে।"এরিকা সাইমন কেমন একটা অস্বস্তি অনুভব করলেন। "হেলমুট, চলো আমরা ফিরে যাই। পরিবেশটা কেন জানি ভালো লাগছে না।"
তারা যখন তিসেনজক (Tisenjoch) গিরিপথ দিয়ে নামছে, তখন এক জায়গায় বরফগলা জল জমে একটা গর্ত তৈরি হয়েছে। হঠাৎ এরিকা চিৎকার করে উঠলেন। তার আঙুলের ইশারায় সবাই থমকে দাঁড়াল। গর্তের ভেতর থেকে উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা একটি মানুষের পিঠ আর মাথার খুলির অংশ বেরিয়ে আছে। চামড়াটা কুঁচকে কালচে হয়ে গেছে, যেন রোদে পোড়া চামড়া। হেলমুট উত্তেজিত হয়ে এগিয়ে গেলেন, "কুর্ট, দেখো! কেউ বোধহয় এখানে পড়ে মারা গেছে। হয়তো কোনো দুর্ভাগা পর্বতারোহী।" কুর্ট কাছে গিয়ে খুঁটিয়ে দেখলেন। "না হেলমুট, কোনো আধুনিক পর্বতারোহীর পোশাক এমন হয় না। এর গায়ে কীসের যেন চামড়ার তৈরি অদ্ভুত কাপড়।"
রেনার হেন ততক্ষণে পেশাগত অভ্যাসে গর্তের কিনারে হাঁটু গেড়ে বসেছেন। তিনি সাবধানে তুষার সরাতেই শিউরে উঠলেন সবাই। বেরিয়ে এল একটা হাত, যা পাথর আঁকড়ে ধরার ভঙ্গিতে এখনো শক্ত হয়ে আছে। রেনারের চোখে বিস্ময় আর ভয় দুই-ই খেলা করছে। তিনি নিচু গলায় বললেন, এই লোকটা কাল বা পরশু মরেনি। এই শরীরের গঠন, এই হাড়. এ যেন হাজার বছর আগের কোনো মৃতদেহ যা বরফ আজ উগরে দিয়েছে।
ঠিক সেই মুহূর্তে এক পশলা তুষারপাত শুরু হলো। বাতাসের শব্দটা হঠাৎ কেমন জানি মানুষের কান্নার মতো শোনাতে লাগল। কুর্ট ফ্রিটজ অস্থির হয়ে বললেন, আমাদের জলদি এখান থেকে নামতে হবে। পাহাড়ের এই এলাকাটাকে স্থানীয়রা বলে 'শয়তানের আঙিনা'। এখান থেকে মৃতদেহ বের করা ভালো লক্ষণ নয়। রেনার হেন তখনো মমিটার চোখের কোটরের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সেখানে কোনো চোখ নেই, কিন্তু তার মনে হলো গভীর এক অন্ধকার তাকে দেখছে। একটা অদৃশ্য শীতল হাত যেন তার পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গেল।
তুষারঝড় শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ওটজিকে বরফ থেকে মুক্ত করে নিয়ে এল অস্ট্রিয়ার ইনসব্রুক (Innsbruck) শহরের ফরেনসিক ল্যাবে। বাইরে তখন তুমুল বৃষ্টি, আর ল্যাবের ভেতরে সাদা উজ্জ্বল আলোর নিচে শুইয়ে রাখা হয়েছে সেই ৫০০০ বছরের পুরোনো মমিটিকে।রেনার হেন আজ খুব উত্তেজিত। তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় কেস এটি। তিনি গ্লাভস পরে মমিটির শরীরের ওপর থেকে বরফ আর কাদা পরিষ্কার করতে লাগলেন। পাশে দাঁড়িয়ে নোট নিচ্ছেন হেলমুট সাইমন। হেলমুটের চোখেমুখে সেই আগের আনন্দ নেই, কেমন যেন একটা ফ্যাকাসে ভাব। তার মনে হচ্ছে, পাহাড় থেকে নামার পর থেকেই তার শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমছে।
রেনার হেন যখন মমিটির কুঁচকানো চামড়ায় হাত দিলেন, ঠিক তখনই ল্যাবের সব কটা লাইট একবার কেঁপে উঠে নিভে গেল। জেনারেটর চালু হতে কয়েক সেকেন্ড সময় নিল, কিন্তু সেই কয়েক সেকেন্ডের অন্ধকারে রেনার অনুভব করলেন, তার কাঁধের ওপর কেউ একটা বরফশীতল হাত রেখেছে।
আলো আসতেই তিনি দেখলেন ঘরে কেউ নেই, শুধু হেলমুট দরজার কাছে দাঁড়িয়ে কাঁপছেন।
কী হয়েছে হেলমুট? রেনারের গলায় ভয়ের সুর।
রেনার... ওটা নড়ছে। আমি শপথ করে বলছি, মমিটার হাতটা একটু আগে পাথরের ওপর ছিল, এখন ওটা নিজের বুকের ওপর! হেলমুট বিড়বিড় করে বললেন।
রেনার হেসে উড়িয়ে দিতে চাইলেন, হয়তো বরফ গলার কারণে পেশি সংকুচিত হয়েছে। পাগল হয়ো না!
ইনসব্রুক শহরের সেই কনকনে ঠাণ্ডা গবেষণাগারে এখন এক অদ্ভুত থমথমে ভাব। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, আর ভেতরে রেনার হেন আর তার দল ওটজির ওপর শেষ ময়নাতদন্ত চালাচ্ছেন। রেনার তার নোটবুকে লিখছেন, কিন্তু তার হাত কাঁপছে।রেনার যখন মমিটির এক্স-রে প্লেটটা আলোর সামনে ধরলেন, তার চোখ কপালে উঠল। "সবাই এদিকে দেখো!" তিনি চিৎকার করে উঠলেন। মমিটির বাম কাঁধের ঠিক নিচে, হাড়ের গভীরে একটা পাথরের তীরের অগ্রভাগ বিঁধে আছে। তিনি তার টিমের দিকে তাকিয়ে কাঁপা গলায় বললেন, "এটা কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়। ৫,৩০০ বছর আগে এই লোকটিকে পেছন থেকে তীর মেরে হত্যা করা হয়েছিল। তীরের আঘাতে তার ধমনী ছিঁড়ে গিয়েছিল, যার ফলে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। ওটজি পালাচ্ছিল, আর ঘাতক তাকে পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত ধাওয়া করেছিল।"
গবেষণাগারের টেবিলে সাজানো ওটজির সরঞ্জামগুলো এক অন্য রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেনার তার ফরেনসিক রিপোর্টে লিখলেন যে, ওটজির শরীরে পাওয়া গেছে ৬১টি নীলচে উল্কি। এগুলো কোনো ফ্যাশন ছিল না; হাড়ের জয়েন্টে জয়েন্টে করা এই উল্কিগুলো ছিল এক ধরণের প্রাচীন চিকিৎসা বা তুকতাক। সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল ওটজির হাতে থাকা সেই তামার কুড়াল। রেনার যখন সেটা ল্যাবে পরীক্ষা করলেন, দেখলেন ওটা ৯৯.৭% খাঁটি তামা। "৫০০০ বছর আগে এই প্রযুক্তি আসা সম্ভব নয়!" রেনার ভাবলেন। তার মনে হলো, ওটজি হয়তো তার গোত্রের কোনো উচ্চপদস্থ ওঝা বা নেতা ছিলেন। আর এই কুড়ালটি ছিল তার শক্তির প্রতীক, যা কেড়ে নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
রেনার মমিটির পাকস্থলী থেকে কিছু অবশেষ সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের নিচে রাখলেন। মরার ঠিক দুই ঘণ্টা আগে সে ভারী খাবার খেয়েছিল, রেনার বিড়বিড় করলেন। আইবেক্সের মাংস, কিছু বুনো গম আর বিষাক্ত ফার্ন। সে জানত না যে তার আয়ু আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি।
ময়নাতদন্তের সেই উত্তেজনাকর রাতগুলো শেষ হলো। ওটজির শরীর থেকে তীরের মাথা উদ্ধার করা হয়েছে, তার ডিএনএ রিপোর্ট তৈরি। কিন্তু গবেষণাগারের কাজ শেষ হলেও, যারা এই মমির সংস্পর্শে এসেছিল, তাদের জীবন থেকে শান্তি চিরতরে বিদায় নিল। শুরু হলো এক ধীর ও যন্ত্রণাদায়ক রূপান্তর।
ময়নাতদন্তের কয়েক সপ্তাহ পর থেকেই রেনার হেন লক্ষ্য করলেন তার শরীরের তাপমাত্রা সবসময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকছে। ঘরের হিটার ফুল স্পিডে চালিয়েও তার কাঁপুনি থামত না। তার স্ত্রী লক্ষ্য করলেন, রেনারের গায়ের রঙটা কেমন জানি ফ্যাকাসে ধূসর হয়ে যাচ্ছে ঠিক যেমন ওটজির চামড়া ছিল। রেনার রাতের বেলা হঠাৎ চিৎকার করে জেগে উঠতেন। তিনি বলতেন, ঘুমের ঘোরে তিনি অনুভব করেন তার শরীরে ৫০০০ বছর আগের সেই পাথরের তীরের ফলাটা কেউ ধীরে ধীরে ঢোকাচ্ছে।
পাহাড়ি গাইড কুর্ট ফ্রিটজ তার শান্ত গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও তিনি শান্তি পেলেন না। তিনি অভিযোগ করতেন যে, তার ঘরের কোণায় সবসময় একজন লম্বা লোক দাঁড়িয়ে থাকে যার হাতে একটা তামার কুড়াল।
এক রাতে কুর্ট তার ডায়েরিতে লিখেছিলেন,আমি যখন আয়নায় তাকাই, নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই না। আমি দেখি ওটজিকে। সে আমাকে ইশারায় পাহাড়ে ডাকছে। তার সেই শূন্য চোখের কোটর দিয়ে যেন এক গভীর অন্ধকার আমাকে গিলে খেতে চায়। তিনি তার প্রিয় পাহাড়কে হঠাৎ ঘৃণা করতে শুরু করলেন, কারণ পাহাড়ের চূড়া থেকে ভেসে আসা বাতাসের শব্দে তিনি পরিষ্কার শুনতে পেতেন তার নিজের নাম কেউ ডাকছে।
আবিষ্কারক হেলমুট সাইমন তার তোলা ছবিগুলো যখন ডেভেলপ করলেন, তখন এক অদ্ভুত দৃশ্য ধরা পড়ল। ছবির প্রতিটি ফ্রেমে, যেখানেই ওটজি ছিল, সেখানে একটা অদ্ভুত কুয়াশাচ্ছন্ন অবয়ব দেখা যাচ্ছিল। শুধু তাই নয়, হেলমুট লক্ষ্য করলেন তার বাড়িতে থাকা সব ধরণের ঘড়ি হুটহাট থেমে যাচ্ছে। ব্যাটারি বদলালেও কাজ হয় না। সময় যেন তার জন্য স্থির হয়ে গেছে। একদিন সকালে হেলমুট তার ক্যামেরা পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখলেন, লেন্সের ভেতরে বরফের সূক্ষ্ম কণা জমে আছে। ঘরের ভেতরের তাপমাত্রায় বরফ আসা অসম্ভব, তবুও সেই ক্যামেরা দিয়ে তোলা প্রতিটি ছবি এখন তুষারঝড়ের মতো অস্পষ্ট হয়ে আসছিল।
বিজ্ঞানী কনরাড স্পিন্ডলারের মতো যুক্তিবিদ মানুষটিও ধীরে ধীরে খিটখিটে হয়ে উঠলেন। তিনি ল্যাবরেটরিতে একা কাজ করতে ভয় পেতেন। তার মনে হতো, ওটজির সরঞ্জামগুলো নিজে নিজেই জায়গা পরিবর্তন করছে। একদিন তিনি দেখলেন, ওটজির সেই তামার কুড়ালটি টেবিল থেকে গায়েব হয়ে গেছে, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর সেটা আবার ঠিক একই জায়গায় ফিরে এসেছে। অথচ ল্যাবে সিসিটিভি ক্যামেরায় কাউকে ঢুকতে দেখা যায়নি।
ড. রেনার হেন (প্রথম বলি)
তিনি ছিলেন সেই ফরেনসিক প্যাথলজিস্ট যিনি ওটজিকে প্রথমবার খালি হাতে পরীক্ষা করেছিলেন। ১৯৯২ সালে, মমিটি নিয়ে একটি বড় বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তব্য দিতে যাওয়ার পথে তার গাড়িটি এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তার মৃত্যুর ধরণটি ছিল অত্যন্ত রহস্যময়।
কুর্ট ফ্রিটজ (দ্বিতীয় বলি)
তিনি ছিলেন সেই অভিজ্ঞ পাহাড়ি গাইড, যিনি হেলিকপ্টারে করে ওটজির দেহাবশেষ সরানোর কাজে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে, আল্পসের এক অভিযানে এক বিশাল তুষারধস (Avalanche) তাকে জীবন্ত কবর দিয়ে দেয়। তার দলের বাকি সদস্যরা অক্ষত থাকলেও, শুধু কুর্টকেই বরফের তলায় প্রাণ দিতে হয়।
রেনার হফম্যান (তৃতীয় বলি)
ওটজির উদ্ধারকার্যের প্রতিটি মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন এই আমেরিকান সাংবাদিক। উদ্ধারের কয়েক মাস পরেই তিনি এক রহস্যময় এবং বিরল ‘মস্তিষ্কের ব্যাধি’তে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। তার তোলা ফুটেজগুলো আজও আছে, কিন্তু তিনি নেই।
হেলমুট সাইমন (আবিষ্কারক ও চতুর্থ বলি)
মমির মূল আবিষ্কারক হেলমুটের মৃত্যু ছিল সবচেয়ে নাটকীয়। ২০০৪ সালে তিনি আবার সেই একই পাহাড়ে ট্রেকিং করতে যান। আবহাওয়া হঠাৎ বদলে যায় এবং তিনি নিখোঁজ হন। আট দিন পর উদ্ধারকারীরা তার মৃতদেহ খুঁজে পায়। দেখা যায়, তিনি ঠিক সেই ভঙ্গিতে বরফে মুখ থুবড়ে পড়ে আছেন, যে ভঙ্গিতে ৫০০০ বছর আগে ওটজি মরে পড়ে ছিল। তিনি যেন নিজেই মমি হয়ে ফিরলেন।
ডিটার ওয়ারনেকে (পঞ্চম বলি)
তিনি ছিলেন পাহাড়ী উদ্ধারকারী দলের প্রধান, যিনি হেলমুট সাইমনের মৃতদেহ খুঁজে বের করেছিলেন। হেলমুটকে সমাহিত করার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরেই, ডিটার এক আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার পরিবারের সদস্যরাও এই অকাল মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে যান।
কনরাড স্পিন্ডলার (ষষ্ঠ বলি)
ওটজি বিশেষজ্ঞ এই বিজ্ঞানী প্রকাশ্যে অভিশাপের কথা শুনে হাসাহাসি করতেন। ২০০৫ সালে তিনি এক বিরল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর ঠিক আগে তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কাছে স্বীকার করেছিলেন যে, ওটজির রহস্য তার ভেতর এক ধরণের গভীর বিষণ্ণতা তৈরি করেছে।
টম লয় (সপ্তম বলি)
সবশেষে প্রাণ হারান বিখ্যাত বিজ্ঞানী টম লয়। তিনি ওটজির পোশাকে লেগে থাকা প্রাচীন রক্তের ডিএনএ বিশ্লেষণ করেছিলেন। ২০০৫ সালের শেষদিকে তিনি তার গবেষণাগারেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। তিনি এক বিরল ‘ব্লাড ডিজিজ’ বা রক্তজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন, যার লক্ষণগুলো ধরা পড়ার আগেই তিনি মারা যান।
এই সাতটি মৃত্যুই নথিবদ্ধ বাস্তব ঘটনা। বিজ্ঞান এগুলোকে ‘কাকতালীয়’ বললেও, আল্পসের সেই হিমশীতল নির্জনতায় আজও একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায় ওটজি কি সত্যিই তার শান্তিতে বাধা দেওয়া মানুষদের অভিশাপ দিয়েছিলেন? ৫০০০ বছর আগে ওটজিকে কেউ একজন পেছন থেকে তীর মেরে খুন করেছিল। হয়তো তার সেই অতৃপ্ত আত্মা আজও চায় না কেউ তার যন্ত্রণার ইতিহাস পৃথিবীর কাছে ফাঁস করে দিক।

Comments
Post a Comment