Posts

Showing posts from April, 2026

বাংলার গালী

Image
   মা_গি শব্দের আদি ও অন্তঃ আমাদের দৈনন্দিন আড্ডায় আমরা অনেক শব্দ ব্যবহার করি যার পেছনের ইতিহাস আমরা জানি না। তেমনই একটি শব্দ হলো মা_গি'। বর্তমানে এটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ গালি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, ইতিহাসের পাতায় এর রূপ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, এই শব্দটি মূলত সংস্কৃত 'মাতৃকা' শব্দ থেকে বিবর্তিত হয়ে প্রাকৃত ভাষায় 'মাঅ' এবং পরবর্তীতে বাংলায় 'মাগী' রূপ নেয়। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে এই শব্দের অর্থ ছিল অত্যন্ত সাধারণ। আদি অর্থ: সাধারণ অর্থে 'নারী', মেয়মানুষ'বা স্ত্রীলোক। সাহিত্যে প্রয়োগ: প্রাচীন পুঁথি বা মঙ্গলকাব্যগুলোতে বয়স্ক নারীদের শ্রদ্ধাভরে বা সাধারণভাবে বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার করা হতো। এমনকি মা কেও অনেক সময় আঞ্চলিক টানে এই মূল থেকে আসা শব্দে সম্বোধন করার নজির আছে। ভাষাবিজ্ঞানে একটি বিষয় আছে যাকে বলা হয় অর্থাবকর্ষ । অর্থাৎ সময়ের সাথে সাথে কোনো ভালো শব্দের অর্থ খারাপ হয়ে যাওয়া। এক সময় নিম্নবর্গের মানুষেরা নিজেদের মধ্যে নারীদের সম্বোধন করতে এই শব্দ ব্যবহার করতে শুরু করে। ধীরে ধীরে শিক্ষিত বা তথাকথিত উচ্চবর্গের সমাজে শব্দটি তুচ্...

Lady Gangster

Image
  শহরের যান্ত্রিক জীবনে আমি একজন সাধারণ একাউন্ট্যান্ট। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে আমার জগতটা কেবল শূন্যের হিসাবে আটকে আছে। আলমারির কোণায় পড়ে থাকা সিভিগুলোয় ধুলো জমেছে, আর রান্নাঘরের চালের ড্রামটা এখন খাঁ খাঁ করছে। এমনকি বোতলে রাখা শেষ কয়েকটা মুড়ি যখন শেষ হয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম ভদ্র উপায়ে বাঁচার সময়টা আমার ফুরিয়ে এসেছে।  আমার শরীরটা কোনোকালেই কঠোর পরিশ্রমের উপযুক্ত নয়, কলম পেষাই আমার নিয়তি। কিন্তু মাথার ওপর বাবার রেখে যাওয়া ঋণের বিশাল পাহাড় আমাকে প্রতিনিয়ত পিষছে। ঠিক সেই মুহূর্তে স্কুলজীবনের এক বন্ধুর মাধ্যমে খবরটা এল। খাগড়াছড়ির গহীন অরণ্যের একচ্ছত্র অধিপতি, ড্রাগ মাফিয়া বিরমল চংয়ের জন্য একজন বিশ্বস্ত মানুষ চাই। কাজটা সহজ কিন্তু মারাত্মক তার ড্রাগ সাম্রাজ্যের কোটি কোটি টাকার হিসাব মেলাতে হবে, কালো টাকাকে করতে হবে সাদা।সাধারণ চাকরির চেয়ে বেতন চার-পাঁচ গুণ বেশি। জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও আমি রাজি হলাম। কারণ, না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে এই রোমাঞ্চকর নরকে পা বাড়ানোই আমার কাছে তখন শ্রেয় মনে হলো। আমি জানি, একবার এই পথে পা দিলে ফেরার পথ নেই। ভ্যাট আর ট্যাক্সের মারপ্যাঁচে দক্ষ এই হাত দু...

তিতুমীর

Image
  আঠারো শতকের শেষ ভাগ। বাংলার আকাশে তখন পরাধীনতার কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। একদিকে ব্রিটিশ নীলকরদের দাপট, অন্যদিকে দেশীয় জমিদারদের শোষণে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। চব্বিশ পরগনার বসিরহাট মহকুমার চাঁদপুর গ্রামটি তখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর আম-কাঁঠালের ছায়ায় ঘেরা এক শান্ত জনপদ। ১৭৮২ সাল। ২৭ জানুয়ারি, মাঘের কনকনে শীতের এক রাত। চাঁদপুরের সম্ভ্রান্ত সৈয়দ পরিবারে তখন যেন এক দিব্য জ্যোতির আভাস পাওয়া গেল। মা আবিদা রুকাইয়া খাতুন এক ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন। বাবা সৈয়দ মীর হাসান আলী আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। নবজাতকের নাম রাখা হলো  সৈয়দ মীর নিসার আলী । সৈয়দ পরিবারটি এলাকায় যথেষ্ট সম্মানিত ছিল। তাঁদের পূর্বপুরুষরা ধর্মপ্রচার ও জ্ঞানচর্চার জন্য বিখ্যাত ছিলেন। নিসার আলীর শৈশব কেটেছে গ্রামের কাদামাটি মেখে, খোলা মাঠে দৌড়ে আর বড় ভাইদের সাথে চঞ্চলতায় মেতে। বাড়িতে যেমন শাসনের কড়াকড়ি ছিল, তেমনি ছিল স্নেহ মমতার ছায়া। তাঁর অন্যান্য ভাইবোনদের মাঝে নিসার আলী ছিলেন একটু আলাদা শান্ত কিন্তু প্রচণ্ড দৃঢ়চেতা। নিসার আলীর বয়স তখন খুব কম। একবার তিনি কঠিন জ্বরে পড়লেন। কবিরাজ মশাই একবাটি কড়া তেতো ওষুধ নিয়ে...

Nawab (নবাব)

Image
  লেখকঃ সীমান্ত সরকার আঠারো শতকের শুরুর দিক। দিল্লির মুঘল সিংহাসন তখন প্রদীপের শেষ শিখার মতো কাঁপছে। দূর পারস্য থেকে ভাগ্যের সন্ধানে হিন্দুস্তানে পাড়ি জমিয়েছেন এক তুর্কি বংশোদ্ভূত যুবক  মির্জা মুহম্মদ আলী । সঙ্গে তার বৃদ্ধ পিতা মির্জা মুহম্মদ এবং বড় ভাই হাজি আহমদ। দিল্লিতে তখন ক্ষমতার চরম অস্থিরতা, তাই দুই ভাই সিদ্ধান্ত নিলেন তারা পূর্বের সমৃদ্ধ প্রদেশ 'সুবে বাংলা'র দিকে যাত্রা করবেন। বাংলার আবহাওয়া তখন বর্ষাস্নাত, চারিদিকে সবুজের সমারোহ আর গঙ্গার বুকে পাল তোলা নৌকার মেলা। বাংলার তৎকালীন সুবাদার মুর্শিদকুলি খাঁর জামাতা শুজাউদ্দিন খাঁ তখন ওড়িশার দায়িত্বে। মির্জা মুহম্মদ আলী তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর অসামান্য রণকৌশল দিয়ে দ্রুতই শুজাউদ্দিনের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠলেন।  ১৭২৭ সালে মুর্শিদকুলি খাঁর মৃত্যুর পর বাংলার মসনদ নিয়ে শুরু হলো টানাপোড়েন। শুজাউদ্দিন খাঁ যখন বাংলার নবাব হলেন, মির্জা মুহম্মদ আলীকে দেওয়া হলো 'আলীবর্দী খাঁ' উপাধি এবং বিহারের শাসনভার। বিহারের রাজধানী আজিমাবাদে (বর্তমান পাটনা) বসে আলীবর্দী কেবল শাসনই করলেন না, গড়ে তুললেন এক অপরাজেয় সেনাবাহিনী।  কিন্তু পর্দার আড়া...

Fog-2

Image
  Writer: Shimanto Sarkar Since childhood, the concept of "fear" has been entirely absent from my vocabulary. While other kids my age would jump at their own shadows, their terror always felt like a farce to me a strange exaggeration. Looking back, I believe my fearlessness was a gift from the environment I grew up in. My mother inherited a small piece of land from her father, tucked away deep behind the main ancestral village. It was a wild, forgotten corner of the world, dominated by thick bamboo groves, ancient tamarind trees, and dense undergrowth. Even after we cleared the woods to build our home, the wilderness remained our closest neighbor. I was raised amidst that raw, untamed nature. The rustling of leaves in the dead of night and the heavy silence of the forest became my lullabies. To me, these "eerie" settings don't evoke dread; they feel like home. The supernatural doesn't haunt me it simply feels like a familiar old friend. The actual story bega...

কুয়াশা-০২

Image
লেখকঃ সীমান্ত সরকার ছেলেবেলা থেকেই ভূতের ভয় শব্দটা আমার অভিধানে নেই। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা যখন অন্ধকারে নিজের ছায়া দেখে আঁতকে উঠত, আমার কাছে তখন সেসব রীতিমতো প্রহসন মনে হতো। ভয় না পাওয়ার কারণটা বোধহয় আমার বেড়ে ওঠার পরিবেশের মধ্যেই মিশে ছিল। আমার মা তাঁর বাবার সম্পত্তির সামান্য একটা অংশ পেয়েছিলেন গ্রামের মূল বসতির একদম শেষ প্রান্তে। জায়গাটা ছিল লোকালয় থেকে বেশ দূরে, ঘন জঙ্গলে ঘেরা। সেখানে আকাশছোঁয়া বাঁশঝাড়, বিশালাকার পুরনো তেঁতুল গাছ আর বুনো লতাপাতার রাজত্ব ছিল। জঙ্গল সাফ করে যখন আমাদের ঘরটা তোলা হলো, তখনও চারপাশে অন্ধকারের বুক চিরে অদ্ভুত সব শব্দ ভেসে আসত। সেই নির্জনতা আর ছমছমে পরিবেশের কোলেই আমার শৈশব কেটেছে। প্রকৃতির সেই আদিম অন্ধকার আর বুনো নিস্তব্ধতার সাথে আমার বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই। তাই তথাকথিত 'ভুতুড়ে' পরিবেশ এখন আর আমার মনে কোনো কাঁপুনি ধরায় না, বরং এক অদ্ভুত প্রশান্তি দেয়। ঘটনাটার শুরু যখন আমি দশম শ্রেণিতে পড়ি। আমাদের স্কুলের পাশের গ্রামেই বন্ধু আকাশের বাড়ি। তার ছোট বোনের জন্মদিন উপলক্ষে আমরা চারজন দাওয়াত পেয়েছিলাম আমি, মেঘনা, রুনা আর লাঞ্জু। বিকেলেই স্কুল থেকে ফির...

Breath of the Deceased: The Chilling Saga of Ötzi the Iceman

Image
 September 19, 1991. As the sun rose over the Ötztal Valley in the Alps, the world seemed draped in liquid gold. At 10,500 feet, the sky stretched like a deep blue velvet canopy over peaks shimmering like crushed diamonds. The air was crisp, filled with an eerie freshness that masked the horror lurking beneath the ice. A small group of four trekked through this heavenly landscape: Helmut and Erika Simon: A German couple fueled by the thrill of the heights. Kurt Fritz: A local mountain guide who knew these frozen trails like the veins in his hand. Rainer Henn: A forensic pathologist seeking refuge from the sterile walls of his lab and the scent of death. They were laughing, singing, and throwing snowballs. Kurt smiled, remarking, "The mountains are kind to us today." He couldn't have been more wrong. The Awakening of a 5,000-Year-Old Secret By afternoon, the sky turned the color of ash. The wind began to moan, a haunting whistle that sounded like a warning from the sh...

মৃতের নিশ্বাস

Image
  ১৯৯১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। ভোরবেলায় আল্পস পর্বতমালার ওতজল (Ötztal) উপত্যকায় যখন সূর্য উঠল, তখন মনে হলো পৃথিবীটা সোনা দিয়ে বাঁধানো। সাড়ে ১০ হাজার ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে আকাশটাকে মনে হয় গাঢ় নীল এক বিশাল চাদর, যা বরফে ঢাকা সাদা পাহাড়গুলোর ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোদের আলোয় তুষারের চাদর হীরের কুচির মতো ঝিকমিক করছে। বাতাসের কামড় আছে, কিন্তু তা হাড়কাঁপানো নয়, বরং এক অদ্ভুত সতেজতায় ভরা। এই স্বর্গীয় পরিবেশে পা রেখেছে চারজনের একটি ছোট দল। তাদের চোখেমুখে ক্লান্তি নেই, আছে অ্যাডভেঞ্চারের নেশা।  হেলমুট সাইমন ও এরিকা সাইমন: এই জার্মান দম্পতি পাহাড়ে ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন। হেলমুট তার দামী ক্যামেরা দিয়ে বারবার বরফে ঢাকা শৃঙ্গগুলোর ছবি তুলছেন। এরিকা লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রকৃতির এই বিশালতার কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে করছেন, কিন্তু মনে তার অপার আনন্দ। কুর্ট ফ্রিটজ: স্থানীয় পাহাড়ি গাইড। চওড়া কাঁধ, মুখে রোদে পোড়া তামাটে রঙ। তিনি এই বরফের রাজ্যের নাড়ি নক্ষত্র চেনেন। হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে তিনি পুরনো দিনের পাহাড়ি বীরদের গল্প শোনাচ্ছেন, আর বাকিরা মুগ্ধ হয়ে শুনছে। রেনার হেন: পেশায় ফরেনসিক প্যাথলজিস...

ফারাওয়ের অভিশাপ

Image
  নীল নদের ধুলোমাখা তীরে, তপ্ত বালুর নিচে এক বিশাল সাম্রাজ্য শুয়ে আছে যাকে আমরা চিনি প্রাচীন মিশর নামে। কিন্তু এই মিশর কেবল পিরামিড আর সোনার দেশ নয় এ হলো এমন এক রহস্যের আকর, যা আজও মানুষের রক্ত হিম করে দেয়। সেই হাজার বছর আগের কথা। যখন মরুভূমির বালুঝড়ে রাজাদের পদচিহ্ন মুছে যেত, তখন মিশরের ফারাওরা বিশ্বাস করতেন মৃত্যুর পরের জীবনে। তারা মনে করতেন, মৃত্যু মানে শেষ নয়, বরং এক অনন্ত যাত্রার শুরু। আর সেই যাত্রায় নিজের দেহকে অক্ষত রাখতে তারা মমি তৈরি করতেন। লিনেন কাপড়ের ব্যান্ডেজ আর দুর্লভ সুগন্ধি মশলায় জড়িয়ে ফারাওদের রাখা হতো এক অন্ধকার প্রকোষ্ঠে, যা মাটির গভীরে লুকানো থাকত।  প্রথমে তারা শরীরের ভেতর থেকে পচনশীল অংশগুলো (নাড়িভুঁড়ি, লিভার, ফুসফুস) বের করে ফেলত। মজার ব্যাপার হলো, তারা হৃৎপিণ্ডটা শরীরের ভেতরেই রেখে দিত, কারণ তারা মনে করত এখানেই মানুষের বুদ্ধি আর আত্মা থাকে। আর মস্তিষ্ক বের করা হতো নাক দিয়ে লম্বা হুক ঢুকিয়ে! এরপর শরীরটাকে 'ন্যাট্রন' (এক ধরণের লবণ) দিয়ে ৪০ দিন ঢেকে রাখা হতো যাতে শরীরের সব পানি শুকিয়ে যায়। শরীরটা একদম শুঁটকির মতো হয়ে যেত। শুকিয়ে যাওয়ার পর শরীরটাকে...