ইফরিদ জিন, যুবতী মেয়ে হত গায়েব, কি ঘটেছিলো সাতক্ষীরায়
বাংলাদেশের সাতক্ষীরা অঞ্চলের সুন্দর বনের ধারে এক গ্রাম থেকে কয়েক জন যুবতী মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যেতে শুরু করে। কিছুতেই তাদের খোজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। এতে পুরো বাংলাদেশের শিক্ষিত সমান আলেম সমাজ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে জায়। আবার আলেম সমাজের মাঝে আরো দুই ভাগ হয়ে যায়। এ নিয়ে ১৯৯০ সালে বিশাল এক আন্দোলন হয়। আন্দোলনের নাম দেওয়া হয় কেয়ামত আন্দোলন। আন্দোলনের মাত্রা এত তীব্র হয়েছিলো যে, সরকার বাধ্য হয় এই আন্দোলন পুরোপুরি ব্যান/বাতিল করে দেওয়ার জন্য।
সাল ১৯৯০। সাতক্ষিরা অঞ্চলের সুন্দর বনের ধারের এক গ্রামের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিলো সুন্দর বন ঘিরেই। পুরুষরা মধুসংগ্রহ করতো আর বনের নদীতে মাছ ধরে জীবনযাপন করতো। নারীরা বনের ভেতর সমুদ্রের জোয়ারে আশা কাকড়া ছোট মাছ ধরতো। প্রতিদিনের মতো সেই গ্রামের ৮-৯ মেয়ে সেই বনে ভেতরে যায় জোয়ারে আসা ছোট মাছ আর কাকড়া ধরতে। হুট করেই সেদিন মেয়েদের কেউ আর বাসায় আসেনি। এ নিয়ে পুরো এলাকা তোলপাড় হতে শুরু করে আস্তে আস্তে সাতক্ষীরা সহ পুরো বাংলাদেশ এ ঘটনাটি জানতে পারে। হুট করে মেয়ে গুলা এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়াতে বাংলাদেশের সরকার নড়ে চড়ে বসে। অনেকের মতে তারা হয়তো বনে হারিয়ে গেছে, আবার কেউ বলছে বাঘে খেয়ে ফেলছে, আবার অনেকের মতে তাদের ভারতে হয়তো কেউ পাচার করে দিয়েছে। কারণ সুন্দর বনের ভেতর ডাকাতের অভাব নেই। অল্প বয়সি মেয়ে পেয়ে তাদের পাচার করে দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু না। যে সকল মেয়ে নিখোঁজ হয়েছে তাদের বয়স গড়ে ৯ থেকে ২১ বছর।
নিখোঁজ হওয়ার ৭ দিনের মাথায় সেই মেয়েদের মাঝে একটা মেয়ে তার বাড়ির সামনে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। তাকে ধরে সাতক্ষীরার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ৩ দিন মেয়েটি অজ্ঞান অবস্থায় ছিলো। শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে, চোখ ভীষণ লাল । দেখে মনে হচ্ছে লম্বা সময় ধরে মেয়েটি ভয় আতঙ্কে অনাহারে ছিলো। এদিকে সাংবাদিক থেকে শুরু করে প্রশাসন এবং নিখোঁজ হওয়া মেয়েদের অভিভাবকরা হাসপাতালে ভিড় জমিয়েছিল। সবার জানার ইচ্ছা তার সাথে কি হয়েছে এবং বাকি মেয়েরা কোথায়??
মেয়েটির জ্ঞান ফেরার পর টানা ৩ ঘন্টা সে কোন প্রকার কথা বলতে পারতেছিলো না। তারপর আস্তে ধিরে সে যা বললো তা শুনে আপনি আমি কিংবা যে কেউ অবাক হয়ে যাবে।
প্রতিদিনের মতো মাছ কাকড়া ধরতে গিয়েছিলো তারা। এ সময় একদল ভিনদেশি লোক যাদের পড়নে লম্বা পাঞ্জাবি ছিলো তবে চেহারা এ দেশের মানুষদের মতো ছিলো না। তারা সেখানে আসে তার তাদের সামনে সব কিছু অন্ধকার হয়ে যায়। চোখ খুলতেই তারা দেখে তাদের হাত পা গাছের সাথে বেধে রাখা হয়েছে। আর একটা মেয়েকে যে তাদের বয়সে বড় ছিলো তাকে উলঙ্গ করে দুই পা দুই দিকে বেধে বাশের মাচার উপর শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। তার বনের ঠিক কোন যায়গায় আছে তা আন্দাজ করতে পারলো না। এই লোকগুলো ওই চাটাই এ শুয়ে থাকা মেয়ের পাশে আগুন জ্বালিয়ে ভিনদেশি ভাষায় কিছু একটা উচ্চারণ করতে লাগলো। এ সময় বনের পাখিদের আওয়াজ বাতাশ সব কিছুই বন্ধ হয়ে গেলো। কিচিরমিচির করা পাখিগুলা হুট করে কোন এক আতঙ্কে চুপ হয়ে রইলো। বাতাশ ও বয়ে চলা বন্ধ করে দিলো। কেমন এক চাপা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বনের এইদিক টাতে। এ সময় উলঙ্গ মেয়ের উপর সাদা চাঁদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হলো। এ সময় একটা ভাড়ি নিঃশ্বাসের আওয়াজে সকলের বুক ধক ধক করা শুরু করেদিয়েছে। মনে হচ্ছে বিশাল কিছু আসতেছে তার নিঃশ্বাসের শব্দ এতটাই গভির যে কেউ ভয় পেয়ে যাবে। সে আসতেছে ওই শুয়ে থাকা মেয়ের দিকে তবে তাকে দেখা যাচ্ছে না। তবে তার উপস্থিতি অনুভব করা যাচ্ছে। মেয়েগুলো ভয়ে চিৎকার দেওয়া শুরু করে দিলো। সেই কিছু একটা আস্তে ধিরে চাঁদর উচু করে উলঙ্গ মেয়ের উপরের দিকে যখন গেলো তখন চাদরের বাইরে থেকে তার অবয়ব আন্দাজ করা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে ভেতরে কেউ গিয়েছে তবে তাকে দেখা যাচ্ছে না। অতঃপর সেটা শুয়ে থাকা সেই মেয়ের সাথে সহবাস(SEX) করতে লাগলো।
একবার ভাবুন কেউ আপনাকে স্পর্শ করতেছে অথচ আপনি তাকে ধরতে পারতেছেন অনুভব করছেন কিছু দেখতে পারতেছেন না। তাহলে আপনার মনে কি পরিমাণ ভয় আর চিৎকার আসতে পারে?? শুয়ে থাকা সেই মেয়েটি এমন ভয়ানক ভাবে চিৎকার করা শুরু করে দিলো যে শান্ত বন আরো ভয়ে চুপসে গেলো।
এভাবে একের পর এক মেয়ের সাথে সেই না দেখা জীবের সাথে সহবাস(SEX) হতে লাগলো। অতঃপর যখন ৯ বছরের ওই বালিকার সিরিয়াল আসতে যখন আর ৩ জন বাকি ছিলো তখন সে বুঝতে পারে তার হাতের বাঁধন অনেকটাই হালকা (Loose) হয়ে এসেছে। সুযোগ বুঝে বাঁধন খুলে সে সেখান থেকে পালিয়ে গেলো।
এ নিয়ে অনেক নিউজ হতে থাকলে সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর ড. কাসিম আলী এই ঘটনা যানার পর কেয়ামত আন্দোলন নামে এক বিশাল মিছিল বের করে। উনার ভাষ্যমতে অলাদ চক্র নামে একদল লোক জীন এবং মানুষের সাথে মিলন ঘটিয়ে মানুষ এর শরীর এবং জীন আত্মা সমন্বয়ে একটা সন্তান দুনিয়াতে আনে। একে অলাদ চক্র বলা হয়।
স্যাটানিজমের নাম আমরা সবাই শুনেছি । সৃষ্টিকর্তা হিসেবে শয়তানকে বিশ্বাস করা ও তার পূজা করাই এক কথায় স্যাটানিজম । জনসম্মুখে ও প্রকাশ্যে এর চর্চা করা প্রায় সকল ধর্ম এবং সমাজেই নিষিদ্ধ। তাই, শয়তানের উপাসনা করতে হয় অত্যন্ত গোপনে, লোকচক্ষুর অন্তরালে। তাই যুগে যুগে বিভিন্ন গ্রুপ গোপ্নে এই স্যাটানিজমের চর্চা করে এসছে । "অলাতচক্র" তেমনি একটি গ্রুপ ।
অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, ইফরিত নামক এক ভয়ংকর ও শক্তিশালী জ্বিনের অনুসারীরা হল "অলাতচক্র"। আর তারাই সেই যুবতী মেয়েদের অপহরণ করে নিয়ে গেছে।কারন ইফরিতের অনন্য, অন্যতম, ও অবাক করা বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষের সাথে যৌন মিলনের এদের পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।
ইফরিতের অনুসারীরা ভূত-শাস্ত্রীয় আচার-পালনের মাধ্যমে, যুবতী নারীদের সাথে ইফরিতের মিলনের ব্যবস্থা করে দেয়। উদ্দেশ্য, মানব সমাজে ইফরিতের বংশধর ও অনুসারী বিস্তার করা।
সাধারণ মানুষ ন'মাসের মাথায় জন্মগ্রহণ করলেও ইফরিতের সন্তান জন্ম নিতে সময় নেয় একমাস। যুবতীর গর্ভে ২৯ দিনেই বেড়ে উঠে ইফরিতের ঔরসজাত ওই সন্তান। সে জন্ম নেয় কোনোপ্রকার ন্যাভাল কর্ড বা নাভিরজ্জু ছাড়াই। অর্থাৎ, নাভি মায়ের অমরার সাথে যুক্ত না থাকায় সে মায়ের থেকে কোনো পুষ্টি গ্রহণ করেনি। শুধু মায়ের পেটকে একমাসের জন্য একটা থলে হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু সন্তানটাকে হৃষ্টপুষ্ট করে বড় করেছে তুলেছে, স্বয়ং ইফরিত জ্বিন।
বাচ্চা জন্মানোর পর ওই যুবতীকে মেরে ফেলা হয়। আর বাচ্চাকে বড় করা হয় দুনিয়াতে মানবকূলে ইফরিতের বংশবিস্তারের উদ্দেশ্যে। তাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারে শুধুমাত্র কালাপরী নামক এক প্রকার অশুভ ডাইনি। ইফরিতের রক্ত প্রচণ্ড বিষাক্ত হওয়ায়, তাদের সন্তানের রক্তেও সে বিষ বাহিত হয়। প্রাণঘাতী সে বিষ যদি ইফরিত সন্তান ২৮ দিনের মধ্যে নিজের শরীর থেকে খালাস না করতে পারে, তবে বিষের প্রভাবে সন্তান নিজেই মৃত্যুবরণ করবে। এই ইফরিতকে দেখার সাধ্য সাধারণ মানুষের নেই। শুধু এর শব্দ এবং নিঃশ্বাস আঁচ করা যায়।





Comments
Post a Comment