Time Travel

 

অতীতে ভ্রমণ বা Time Travel মানুষের চিরন্তন এক স্বপ্ন। তবে পদার্থবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ভবিষ্যতে যাওয়া যতটা সম্ভব (তত্ত্বগতভাবে), অতীতে যাওয়া তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন এবং জটিল। কোনো বস্তু যদি আলোর গতির ($৩,০০,০০০$ কিমি/সেকেন্ড) চেয়ে দ্রুত চলতে পারে, তবে তাত্ত্বিকভাবে তার জন্য সময় উল্টো দিকে চলতে শুরু করবে।

সমস্যা: পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম অনুযায়ী, ভর আছে এমন কোনো বস্তুর পক্ষে আলোর গতি অর্জন করা অসম্ভব, কারণ সেক্ষেত্রে তার ভর অসীম হয়ে যাবে।

মহাকাশ বা 'স্পেস-টাইম' এর দুটি ভিন্ন বিন্দুকে যুক্তকারী একটি কাল্পনিক সুড়ঙ্গকে বলা হয় ওয়ার্মহোল। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, যদি একটি ওয়ার্মহোল তৈরি করা যায় এবং এর এক প্রান্তকে স্থির রেখে অন্য প্রান্তকে আলোর কাছাকাছি গতিতে ঘুরিয়ে আনা যায়, তবে এটি একটি টাইম মেশিনে পরিণত হতে পারে।

সমস্যা: ওয়ার্মহোল আদৌ টিকে থাকে কি না তা আমরা জানি না, আর এটি অত্যন্ত অস্থিতিশীল।

কিছু পদার্থবিজ্ঞানী মনে করেন, মহাবিশ্বের শুরুতে তৈরি হওয়া অসীম লম্বা এবং সরু কিছু 'কসমিক স্ট্রিং' বা মহাজাগতিক সুতা রয়েছে। দুটি শক্তিশালী কসমিক স্ট্রিং যদি একে অপরের খুব কাছ দিয়ে যায়, তবে তারা স্পেস-টাইমকে এমনভাবে বাঁকিয়ে দেয় যে সেখানে অতীতে যাওয়ার পথ তৈরি হতে পারে।

কেন অতীতে যাওয়া প্রায় অসম্ভব? (প্যারাডক্স)

অতীতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো লজিক বা যুক্তি। এর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো "Grandfather Paradox":

ধরুন, আপনি অতীতে গিয়ে আপনার দাদাকে ছোটবেলায় মেরে ফেললেন। তাহলে আপনার বাবার জন্ম হবে না, আর আপনারও জন্ম হবে না। কিন্তু যদি আপনার জন্মই না হয়, তবে অতীতে গিয়ে দাদাকে মারল কে?


Comments

Popular posts from this blog

শেষ দৃশ্যপট (১ম অধ্যায় )

ফারাওয়ের অভিশাপ

মৃতের নিশ্বাস