ব্যর্থ প্রেম
ক্লাস টেন-এ থাকতে মীমকে দেখে আমার হার্টবিট যেভাবে ড্রাম বাজাতো, তাতে মনে হতো বিপিএল-এর ফাইনাল চলছে। সামনে এসএসসি পরীক্ষা, মনে ভাবলাম, এখন না বললে তো পরে মীম অন্য কলেজে গিয়ে অন্য কারো 'ক্রাশ' হয়ে যাবে!
বুক ধকধকানি নিয়ে একদিন সাহস করে মীমকে সামনে দাঁড়া করালাম। পকেট থেকে গোলাপটা বের করে কাঁপাকাঁপা গলায় বললাম, "মীম, আমি তোমাকে বড্ড ভালোবাসি!"
গম্ভীর মুখে মীম বলল:
"দেখ সুমন, প্রেমের নাটক করার টাইম নাই। পরীক্ষার পরেই আব্বু-আম্মু আমাকে পিঁড়িতে বসাবে। তোর যদি এতই শখ হয়, তবে কালই ঘটক নিয়ে আমাদের বাসায় আয়। আমি বিয়ে করতে পারবো, কিন্তু ওই পার্কে বসে বাদাম খাওয়ার টাইম নাই!"
আমি তো থ! আমার নিজের দাড়ি-গোঁফ ঠিকমতো গজায়নি, পকেটে টিফিনের ২০ টাকা, আর মীম চাচ্ছে আমি যেন ডাইরেক্ট 'বর' সেজে হাজির হই! ব্যস! ওখানেই আমার প্রথম প্রেমের 'দ্য এন্ড'।
এসএসসি শেষ করে ভাবলাম -যাক, হাফ ছেড়ে বাঁচলাম! নতুন কলেজ, নতুন পরিবেশ, কলেজের প্রথম দিন গেট দিয়ে ঢুকতেই দেখি সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং মীম! ভাগ্যক্রমে দুজনের একই কলেজে চান্স হয়েছে। পুরোনো প্রেম আবার চাড়া দিয়ে উঠল। একটু ভাব নিয়ে গিয়ে বললাম, "মীম, সেই ক্লাস টেনের কথাটা এখনো মনে আছে। আমি কিন্তু তোমাকেই..."
বাক্যটা শেষ করার আগেই মীম এক হাত তুলে আমাকে থামিয়ে দিল। যেন সে কোনো ট্রাফিক পুলিশ আর আমি উল্টো পথে আসা রিকশা! মীম একদম ক্যাসেট প্লেয়ারের মতো আগের ডায়ালগটাই রিপ্লে করল:
"শোন সুমন, এখন কলেজে ভর্তি হয়েছি। বাসায় আমার জন্য পাত্র দেখা শুরু করেছে। তুই যদি সিরিয়াস হস, তাহলে প্রেম-পিরিতি বাদ দিয়ে সোজা ঘটক নিয়ে ড্রয়িংরুমে এসে বোস। আমি এখনো বিয়ে করতে রাজি, কিন্তু তোর সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরে ফুচকা খাওয়ার টাইম আমার নাই!"
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবলাম "ভাইরে, আমার ক্যারিয়ারের চাকা এখনো লিক হয়ে পড়ে আছে, আর মীম চাচ্ছে আমি এখনই 'ফ্যামিলি ম্যান' হয়ে যাই!" ডাউট নেই, এই বয়সে বিয়ে করলে জীবন শেষ আমার। হলো না কলেজেও প্রেম টা তার সাথে হলো না।
কলেজ শেষ হলো, জীবনটা একটু গুছিয়ে নিলাম। এখন আমি বিবাহিত, সংসারি মানুষ। কোলে ৪ বছরের পিচ্চি মেয়ে, যে সারাদিন আমার চশমা নিয়ে টানাটানি করে। একদিন ফেসবুকে স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ সামনে এলো সেই পরিচিত মুখ মীম! ভাবলাম, দেখি তো ৮ বছর আগে যে "বিয়ে বিয়ে" করে পাগল ছিল, তার কয়টা ছেলেমেয়ে হলো। ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতেই ‘টুং’ করে একসেপ্ট হয়ে গেল। ভাবলাম, কুশল বিনিময় করি। লিখলাম:
সুমন: "কেমন আছো মীম? অনেকদিন পর দেখা। তা কোথায় বিয়ে করলে? তোমার বাচ্চা-কাচ্চা কয়টা? আমার তো ছেলে বড় হয়ে যাচ্ছে!"
ওপাশ থেকে যে রিপ্লাইটা আসলো, সেটা পড়ার পর আমার হাসতে হাসতে ফোনের স্ক্রিন ফেটে যাওয়ার অবস্থা! মীম লিখলো:
মীম: বিয়ে এখনো করিনি, খুব দ্রুত করে ফেলবো। বাসা থেকে ছেলে দেখতেছে...............

Comments
Post a Comment